উৎসব মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের চাহিদা। এর প্রভাবে ফিজিক্যাল গোল্ডের (স্বর্ণের গহনা, মুদ্রা বা বার) প্রিমিয়াম (মূল্য সংযোজন) ১০ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চীনে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা এখনো নিম্নমুখী থাকায় মূল্যছাড় বেড়ে গত পাঁচ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।
ভারতের বাজারে গতকাল প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ৫০০ রুপি (১ হাজার ২৪০ ডলার)। সপ্তাহের শুরুতে তা রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৬৬৬ রুপিতে পৌঁছেছিল। চেন্নাইভিত্তিক এক ডিলার জানান, দাম আরো বাড়ার প্রত্যাশায় ভারতের বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মুদ্রা ও বার ক্রয় বাড়িয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে ভারতের ডিলাররা প্রতি আউন্স স্বর্ণে সর্বোচ্চ ৭ ডলার মূল্য সংযোজন করেছেন। এর মধ্যে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত। গত সপ্তাহে দেশটিতে মূল্যছাড়ের পরিমাণ ছিল আউন্সপ্রতি ৬ ডলার পর্যন্ত।
মুম্বাইয়ের এক বুলিয়ন ডিলার জানান, এত দিন খুচরা ক্রেতারা দাম কমার অপেক্ষায় ছিলেন। এখন উৎসব মৌসুম উপলক্ষে তারা ক্রয় বাড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, অক্টোবরে ভারতে দুর্গা পূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে স্বর্ণ ক্রয় শুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীনে স্বর্ণ বেচাকেনায় মূল্যছাড়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ২১-৩৬ ডলার, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। এর আগের সপ্তাহে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল আউন্সে ১৭-২৪ ডলার।
এ বিষয়ে রস নরম্যান নামের এক স্বতন্ত্র বিশ্লেষক বলেন, ‘গত ছয় মাস চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়াম কমছে। বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন, বিশেষ করে শেয়ারবাজারে।’
তবে সুইস কাস্টমসের তথ্য বলছে, আগস্টে চীনের স্বর্ণ রফতানি আগের মাসের তুলনায় ২৫৪ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের শেষে চাহিদা বাড়বে, এ প্রত্যাশায় অন্যান্য দেশ আমদানি জোরদার করেছে।
এশিয়ার অন্য বাজারগুলোয় স্বর্ণের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। হংকংয়ে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে বৈশ্বিক মূল্যের সমান থেকে ১ দশমিক ৬০ ডলার প্রিমিয়ামে। সিঙ্গাপুরে এ প্রিমিয়াম ছিল শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ১ ডলার ৪০ সেন্ট।